নতুন প্রকাশনা সমূহ:

জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কেনার আগে জেনে নিন

৩০ ডিসে, ২০১৫ চাকা বিডি 1 মন্তব্য টিপস এন্ড ট্রিক্স, হোম

জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কেনার আগে জেনে নিন

লিখেছেন প্রকৌশলী যাঈদ

“আগে বাড়ি, তারপর সম্ভব হলে গাড়ি” এই ধারণা থেকে আমাদের দেশের ক্রমবর্ধিষ্ণু মধ্যবিত্ত শ্রেণি, বিশেষত তরুণ ও শিক্ষিত চাকুরিজীবি ও ব্যবসায়িগণ, সরে আসায় ইদানিং গাড়ি বিক্রি অনেক বেড়েছে। আর এ ব্যাপারে জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির প্রতিই আগ্রহ অনেক বেশি। জাপানে বিক্রির জন্য তৈরি এ গাড়িগুলোর মান আসলেই অনেক ভালো- জাপানে কয়েক বছর চলে আসার পরও এ গাড়িগুলোর উপর নিশ্চিন্তে ভরসা করা যায়। অবশ্য বাংলাদেশের প্রায় ব্যাপারের মত এখানেও একটি “কিন্তু”র ব্যাপার আছে। আর এ “কিন্তু”র ব্যাপার বোঝার জন্য আজ আপনাদের জানাব জাপান থেকে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কিভাবে কেনা কিংবা আমদানি হয়।

সাধারণত দুটি মাধ্যম থেকে আমাদের দেশে গাড়ি আমদানি হয়ে থাকে-

r grade car

১)পুরাতন গাড়ির ডিলার(জাপানি কিংবা জাপানে প্রতিষ্ঠিত ভিন্নদেশি যেমন বাংলাদেশী,ভারতীয়, পাকিস্তানি শ্রীলঙ্কাণ ইত্যাদি ও হতে পারে) স্থানীয় মালিকদের নিকট থেকে গাড়ি সংগ্রহ করে ষ্টক করে থাকে। এই উপায়ে সংগৃহীত গাড়ির ক্রেতাদের বিশেষ সুবিধা হচ্ছে সবধরনের গাড়ির পর্যাপ্ততা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ডিলারদের বিশ্বস্ততা নিয়ে। U-CAR সহ কিছু ডিলার অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য হলেও অনেক ডিলারের ব্যাপারে অসংখ্য অভিযোগ আছে। এই অসাধু ডিলারগন ত্রুটিযুক্ত, দুর্ঘটনা কবলিত এবং উচ্চ মাইলেজের গাড়ি বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে থাকে। মাইলেজ মিটার (ODO METER) জালিয়াতি/রিভারসিং, মডেল ইয়ার ডকুমেন্টস জাল সহ বিভিন্ন রকম প্রতারণার ঘটনা এইসব ডিলারদের গাড়িতে সাধারন। দুর্ভাগ্যের ব্যপার এই যে বাংলাদেশের পুরাতন গাড়ির ব্যবসায়ীগনের বেশিরভাগই এই ভাবে আমদানি করে থাকেন।জাপানে রিপেয়ার হলে তাও কিছুটা ভরসা, কিন্তু বাংলাদেশে নিম্নমানের স্পেয়ার দিয়ে স্থানীয়ভাবে মেরামতকৃত ও রঙ পরিবর্তিত  গাড়িও প্রচুর বিক্রি হয়। এমনকি কিছু কিছু অত্যন্ত সুনামধন্য পুরাতন গাড়ির ব্যবসায়িদের ব্যপারেও অনেক অভিযোগ পাওয়া যায়। এই গাড়িগুলোতে কোন পরিদর্শন রিপোর্ট থাকে না, কাজেই এই অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেয়া বেশ কঠিন হতে পারে।

auction house 2

২) জাপানে পুরাতন গাড়ি নিলামেও বিক্রি হয়ে থাকে। বিভিন্ন অকশন প্রতিষ্ঠান এই নিলামগুলো পরিচালনা করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিলামে বিক্রিতব্য গাড়িগুলো সার্বিক পরিদর্শন ও পরীক্ষা করে একটি সার্বিকগ্রেড এবং সংক্ষিপ্ত পরিদর্শন রিপোর্ট তৈরি করে। অকশন কোম্পানি ভেদে গ্রেডিং-এ সামান্য তারতম্য হলেও এই রিপোর্ট মোটামুটি নির্ভরযোগ্য।কিছুটা বেশি মুল্যের কারণে বাংলাদেশের বেশিরভাগ রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ব্যাবসায়ী জাপানি ডিলারদের গাড়ি কমদামে এনে ক্রেতাদেরকে নয়ছয় বুঝিয়ে অকশন গ্রেড নামে গাড়ি বিক্রি করে থাকে। অকশনের গাড়ির সমস্যা হচ্ছে সবসময় সব মডেলের গাড়ি অকশনে উঠে না, তাই পছন্দের গাড়ি কিনতে ১-২ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে। অকশনে কেনা ভাল গ্রেডের গাড়িতে বেশ কয়েক বছর নিশ্চিন্তে থাকা যায়।

car painting bangladesh

বাংলাদেশের পুরাতন গাড়ির ব্যবসায়ীগণ শো-রুমে গেলেই আপনাকে যেকোন গাড়ি ৪/৪.৫/৫ অকশন গ্রেড (অকশন গ্রেডের বিস্তারিত জানতে এখানে পড়ুন)এবং ১০০০০-৩০/৩৫০০০ মাইলেজ বলবে। কিন্তু অতি ব্যতিক্রম ছাড়া ৪/৫ বছরের পুরাতন গাড়ি এত কম মাইলেজের হওয়ার প্রশ্নই আসতে পারে না। গাড়ি কিনতে গেলে অরিজিনাল অকশন পেপার অনলাইনে দেখিয়ে দিতে বলবেন। কোন প্রিন্টেড পেপার আমলে নেবেন না ফটোশপের যুগে। রিপেয়ার ও কালার চেঞ্জ করে এবং উচ্চ অকশন গ্রেডের কথা বলেই আমাদের দেশে এখন গাড়ি বিক্রি হয়ে থাকে। বিশ্বাস না হলে কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের পেছনের এবং বারিধারা প্রগতি সরণীর গাড়ির ওয়ার্কশপগুলো ঘুরে আসতে পারেন।

১টা মন্তব্য

  1. মো: হাবিবুর রহমান says:

    বাংলাদেশে এখন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান খুলেছে যারা জাপান অকশন থেকে আপনার পছন্দমত গাড়ী আপনার পক্ষে ক্রয় করে দিয়ে থাকে।এদের ব্যাপারে আপনার মত কি?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

98 − 94 =

sidebar ad space 1

ads1

sidebar ad space 2



আমাদের সাথে থাকুন



8 + 1 =  

sidebar ad space 3



  আমাদের অনুসরণ করুণ

যোগাযোগ করুণ

www.chakabd.com

email address:
info@chakabd.com
chakabd2015@gmail.com

67/D, Yakub South Center,Kalabagan, Dhaka-1205
Phone No. 01711281218

  টুইটার আপডেট

  ফেসবুক আপডেট