নতুন প্রকাশনা সমূহ:

ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থা পাল্টে দিবে যে দশ যান

০৬ ডিসে, ২০১৬ চাকা বিডি মন্তব্য নাই হোম

মাহমুদ।

পবিরহন ব্যবস্থায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটে চলেছে। স্বচালিত গাড়ি থেকে শুরু করে হাইপারলুপসহ অভিনব সব যান তৈরিতে নামকরা অটো কম্পানিগুলো প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করছে।
এখানে ভবিষ্যতের এমন কয়েকটি যান সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরা হলো যেগুলো নাটকীয়ভাবে পুরো পৃথিবীর পবিরহন ব্যবস্থা বদলে দেবে।
১. স্বচালিত গাড়ি জীবন ও সময় বাঁচাবেঃ

e1
২০২০ সালের মধ্যেই আধা-স্বচালিত গাড়ি বাজারে আসছে। তার পরবর্তী এক দশকের মধ্যে পুরোপুরি মনুষ্য নিয়ন্ত্রণহীন স্বচালিত গাড়ি রাস্তায় নামানো সম্ভব হবে বলেও কম্পানিগুলোর প্রত্যাশা।মানব চালকবিহীন গাড়ি অনেক বেশি নিরাপদ পরিবহনের নিশ্চয়তা দেবে। ইনো সেন্টার ফর ট্রান্সপোর্টেশনের গবেষণায় দেখা গেছে, আমেরিকার রাস্তায় যদি ৯০% গাড়িই চালকবিহীন হয় তাহলে বছরে দুর্ঘটনার পরিমাণ কমে ৬০ লাখ থেকে ১৩ লাখে নেমে আসবে। আর মৃত্যুর সংখ্যাও বছরে ৩৩ হাজার থেকে ১১ হাজার ৩০০-তে নেমে আসবে।চালকবিহীন গাড়ির সুবাদে লোকে আরো বেশি অবসর পাবে, কার্বন নিঃসরণ কমানো যাবে এবং গাড়ি চালাতে অক্ষম ব্যক্তিরা সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন।
২. উড়ন্ত গাড়ি ট্রাফিক জ্যাম কমিয়ে আনবে সহজেইঃ

e2
জুনে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ জি অ্যারো নামের একটি কম্পানি স্থাপনে ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। কম্পানিটি স্থাপন করা হয়েছে উড়ন্ত গাড়ি বানানোর জন্য। এছাড়া একই উদ্দেশে ল্যারি পেজ কিটি হক নামের আরেকটি কম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে ঠিক কবে নাগাদ তারা উড়ন্ত গাড়ি বানাতে পারবে তার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।তবে টেরাফুগিয়া নামের আরেকটি কম্পানি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যেই তারা টিএফ-এক্স নামের একটি উড়ন্ত গাড়ি রাস্তায় নামাতে পারবে।
৩. চালকবিহীন যাত্রীবাহি ড্রোন যাতায়াতের সময়টুকুতে আপনাকে হাওয়ায় ভাসিয়ে নেবেঃ

e3
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে চীনা কম্পানি ইহ্যাঙ্গ ১৪৮ নামের একটি স্বচালিত বৈদ্যুতিক ড্রোনের মোড়ক উন্মোচন করেছে। এই ড্রোন একক যাত্রীবহনে সক্ষম। ৪.৯ ফুট উঁচু ৪৪০ পাউন্ড ওজনের এই ড্রোন ২২০ পাউন্ড ওজন বহনে সক্ষম।
সম্পূর্ণ বিদ্যুতচালিত এই আকাশযান একজন যাত্রীকে ২৩ মিনিট ধরে ঘন্টায় ৬২ মাইল গতিতে বহনে সক্ষম। ভূমি থেকে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ফুট উঁচু দিয়ে চলতে সক্ষম ড্রোনটি।এর যাত্রীকে শুধু তিনি কোথায় নামবেন তা নিজের স্মার্টফোনের মাধ্যমে ড্রোনটিকে জানিয়ে দিতে হবে। বাকী কাজ ড্রোনটি নিজেই করবে।ইহ্যাঙ্গ জানিয়েছে চলতি বছরের শেষদিকে তারা পরীক্ষামূলকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদায় ড্রোনটি ওড়াবে। সুতরাং বলা চলে, ব্যক্তিগত ড্রোনে চড়ে যাতায়াতের স্বপ্ন শিগগিরই বাস্তব রুপ লাভ করতে যাচ্ছে।
৪. বৈদ্যুতিক গাড়ি ইতিমধ্যেই রাস্তায় চলাচল শুরু করেছে যা পৃথিবীকে আরো সবুজ করবেঃ

e4
২০২০ সালের মধ্যেই পুরোপুরি বিদ্যুতচালিত দীর্ঘ রেঞ্জের গাড়ি রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা করছে বিশ্বের নামকরা অটো কম্পানিগুলো।বিদ্যুতচালিত গাড়িগুলো নিজেরা কার্বন নিঃসরণ করবেনা। পাশাপাশি জ্বালানি চাহিদা মেটানোর জন্য ইউলিটি কম্পানিগুলোকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে আরো বেশি বেশি বিনিয়োগেও চাপ প্রয়োগ করবে।এছাড়া বিদ্যুতচালিত গাড়ির জ্বালানি চাহিদার কথা মাথায় রেখে সৌর বিদ্যুত উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিপ্লব সাধিত হবে।
৫. বিদ্যুতচালিত প্লেনও কার্বন নিঃসরণ এবং শব্দ দূষণ কমাতে সহায়ক হবেঃ

e5
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং নামকরা কয়েকটি আকাশযান নির্মাতা কম্পানি বিদ্যুতচালিত আকাশযান তৈরিতে কাজ করছে।গত জুনে নাসা ঘোষণা করেছে, তারা তাদের এক্স প্লেন সিরিজের জন্য একটি বৈদ্যুতিক বিমান তৈরির কাজ করছে। যার নাম রাখা হবে এক্স-৫৭। ব্যাটারিচালিত বিমানটিতে ১৪টি বৈদ্যুতিক মটর এবং সম্পূর্ণ নতুন একটি ডিজাইনের ডানা যুক্ত করা হবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন মতে, আগামী বছরের মধ্যেই এক্স-৫৭ আকাশে ওড়ার জন্য তৈরি হবে। আর নাসার তথ্যমতে, ২০৩৫ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ বিদ্যুতচালিত যাত্রীবাহি বিমান আকাশে ওড়ানো সম্ভব হবে।
৬. স্কাইট্রেনের মতো মনোরেল পদ্ধতি নগর যাতায়াত ব্যবস্থাকে দ্রুততর করবেঃ

e6
সড়কপথের মাত্র ২০ ফুট ওপর দিয়ে স্কাইট্রেন ক্রুইজগুলো সর্বোচ্চ ঘন্টায় ১৫৫ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম। সড়কপথে যেখানে যেতে ২ ঘন্টা লাগতো স্কাই ট্রেনে সেখানে যেতে লাগবে মাত্র ২০ মিনিট।
আর স্কাইট্রেনের লাইন এবং স্টেশনগুলো এতোটাই ছোট যে খুব সহজেই যে কোনো জায়গায় তা স্থাপন করা সম্ভব; যেমন অফিস ভবনের ভেতরে বা বিমান বন্দরে।গত মে মাসে স্কাইট্রান ঘোষণা করেছে, ২০২০ সালের মধ্যে তারা নাইজেরিয়ার লাগোসে স্কাইট্রেনের প্রথম লাইন স্থাপন করবে। এরপর তারা অন্যান্য দেশেও স্কাইট্রেন চালুর ব্যবস্থা নেবে।
৭. চালকবিহীন শাটল ট্রেন গণপরিবহনের চেহারাই পাল্টে দেবেঃ

e7
চালকবিহীন শাটল ট্রেন নগর গণপরিবহনে বিপ্লব ঘটিয়ে দেবে। সাধারণ সড়কপথের একপাশ দিয়েই এই শাটল ট্রেনের লাইন স্থাপন করা সম্ভব। শুধু একটি অ্যাপের মাধ্যমে অনুরোধ করে বাস বা ট্যাক্সির বদলে শাটল ট্রেনে চড়া যাবে।ইউরোপের বেশ কয়েকটি শহরে পরীক্ষামূলকভাবে চালকবিহীন শাটল ট্রেন চালানো হচ্ছে। ফরাসি কম্পানি ইজিমাইল ইউরোপের অসংখ্য শহরে এই শাটল ট্রেন নামানোর পেছনে কাজ করছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতেও একটি চালবিহীন শাটল ট্রেন পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। লোকাল মটরস নামের কম্পানির তৈরি শাটলটির নাম ওল্লি।
৮. চালকবিহীন বাসও জনবহুল নগরে গণপরিবহনের আরেকটি বিকল্প মাধ্যম হবেঃ

e8
নগরগুলোর জনসংখ্যা উত্তোরত্তর বেড়ে চলায় গণপরিবহনের চাহিদা মেটাতে বেশ কয়েকটি কম্পানি ইতিমধ্যেই চালকবিহীন বাস তৈরিতে কাজ শুরু করেছে।জার্মানির মার্সিডিজ বেঞ্জ গত জুলাইয়ে আধা-স্বচালিত বাস তৈরির পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। এ ধরনের একটি বাসের গতি হবে ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৪৩ কি. মি.।
৯. হাইপারলুপ সিস্টেম এক নগর থেকে অন্য নগরে সাশ্রয়ী ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলবেঃ
প্যাসেঞ্জার পডে চড়ে টানেলের মধ্য দিয়ে ঘন্টায় ৫০০ মাইল গতিতে যাতায়াত করা যাবে; যা দূরবর্তী স্থানে ভ্রমণকে আরো সহজ করে তুলবে। হাইপারলুপ সিস্টেম পুরোপুরি কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং স্বচালিত হওয়ায় আবহাওয়া বা চালক বিভ্রাটের কারণে এতে কোনো সময়ের অপচয় হবে না। আর হাইপারলুপ সিস্টেমে যাতায়াত খরচও হবে খুব কম।
১০. পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট মহাকাশ ভ্রমণে বিপ্লব ঘটাবে এবং ভিনগ্রহে মানব বসতি গড়ে তোলায় সহায়ক হবেঃ

e9
একটি রকেট একবারের বেশি ব্যবহার করা গেলে মহাকাশ ভ্রমণ আরো সহজ হবে। কারণ এতে মহাকাশযান ওড়ানোর খরচ কমে আসবে নাটকীয়হারে।স্পেস এক্স এবং ব্লু অরিজিন পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট তৈরির চেষ্টা চলিয়ে যাচ্ছে। ব্লু অরিজিনের প্রতিষ্ঠাতা অ্যামাজোনের সিইও জেফ বেজোস বলেছেন, তিনি স্বপ্ন দেখেন লাখ লাখ লোক মহাকাশে বসবাস এবং কাজ করবে। ব্লু অরিজিন এ পর্যন্ত চারবার পরীক্ষামূলকভাবে নিউ শেফার্ড নামের এর একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট আকাশে উড়িয়েছে।স্পেস এক্স কম্পানিও পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ন অগ্রগতি সাধন করেছে। স্পেস এক্স চারটি রকেট তৈরি করে আকাশে উড়িয়েছে। স্পেস এক্স জানিয়েছে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই তারা মহাকাশে মনুষ্য বসতি স্থাপনের জন্য রকেটে করে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে। ২০২৫ সালের মধ্যেই মঙ্গলগ্রহে মানুষ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন স্পেস এক্স।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

− 2 = 1

sidebar ad space 1

ads1

sidebar ad space 2



আমাদের সাথে থাকুন



6 + 20 =  

sidebar ad space 3



  আমাদের অনুসরণ করুণ

যোগাযোগ করুণ

www.chakabd.com

email address:
info@chakabd.com
chakabd2015@gmail.com

67/D, Yakub South Center,Kalabagan, Dhaka-1205
Phone No. 01711281218

  টুইটার আপডেট

  ফেসবুক আপডেট