নতুন প্রকাশনা সমূহ:

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সম্ভাবনাময় হাইব্রিড গাড়ি

২২ নভে, ২০১৬ চাকা বিডি মন্তব্য নাই হোম

মাহমুদ।

Nissan Motor Co. chief vehicle engineer Hidetoshi Kadota demonstrates a quick charge of a Nissan Leaf by a solar-assisted EV charging system at Nissan's global headquarters in Yokohama, Japan, Monday, July 11, 2011. Nissan is testing a super-green way to recharge its Leaf electric vehicle using solar power, part of a broader drive to improve electricity storage systems. In the new charging system, electricity is generated through 488 solar cells installed on the roof of the Nissan headquarters building. Four batteries from the Leaf had been placed in a box in a cellar-like part of the building, and store the electricity generated from the solar cells, which is enough to fully charge 1,800 Leaf vehicles a year, according to Nissan. (AP Photo/Koji Sasahara)

হাইব্রিড গাড়ি কী?

হাইব্রিড প্রযুক্তি মানেই হলো, একাধিক বিকল্প পদ্ধতির সুসমন্বয়৷ হাইব্রিড গাড়িতে বিকল্প একাধিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয় জ্বালানি ব্যবহারের কাজে। এ ধরনের গাড়ি একাধিক জ্বালানিতে চালানো যায়। হাইব্রিড গাড়িতে পেট্রোল বা ডিজেল ইঞ্জিন তো থাকেই, সঙ্গে আরো থাকে এক বা একাধিক ইলেকট্রিক মোটর এবং ব্যাটারির সংযোগ। জ্বালানি দিয়ে গাড়ি চলতে শুরু করলে আপনা আপনি ব্যাটারি চার্জ হয়। উচ্চ টর্ক সম্পন্ন বৈদ্যুতিক মোটর ইঞ্জিনে গাড়ি চলতে থাকে। সুবাদে জ্বালানির সাশ্রয় হয়, জ্বালানি শেষ হলে গাড়ি ব্যাটারিতেই চলতে পারে। হাইব্রিড গাড়িতে পেট্রোল ইঞ্জিনের সঙ্গে থাকে একটি ইলেকট্রিক মোটর। উচ্চ টর্কের জন্য এ ধরনের মোটরের সুখ্যাতি রয়েছে। দ্রুত গতিতে চালাতে চাইলে গাড়িতে এই মোটর থাকা ভালো। হাইব্রিড গাড়িকে এই জন্য পরিবেশ বান্ধব গাড়িও বলা হয়ে থাকে।

hy-2

হাইব্রিড গাড়ি আর বৈদ্যুতিক গাড়ির মধ্যে পার্থক্য কী?

অনেকেই হাইব্রিড আর বৈদ্যুতিক গাড়ির তফাতটা ধরতে পারেন না। দুটি গাড়িই গাড়ির ইঞ্জিনে গ্যাসোলিন ফুয়েলের খরচ কমানোর জন্য একই ধরনের প্রযুক্তি প্রয়োগ করে । কিন্তু বৈদ্যুতিক গাড়িগুলো প্লাগ-ইন করে চার্জ করতে হয়, আর গাড়ি কত দূর চলবে সেটাও নির্ভর করে এর চার্জের ওপর। অন্যদিকে হাইব্রিড গাড়ি তেল বা গ্যাস এবং বিদ্যুৎ দুটোর ওপরেই চলে। যদিও সম্প্রতি হাইব্রিড গাড়িও প্লাগ-ইন হাইব্রিড বাজারজাত করেছে, যাকে একটা সোর্সে প্লাগ-ইন করে চার্জ করতে হয়।

হাইব্রিড গাড়ির সুবিধাঃ

এ গাড়ি তেলে যেমন চলে তেমনি এতে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি। গাড়ি যখন তেলে চলতে থাকে, তখন আলাদাভাবে ব্যাটারি রিচার্জ হতে থাকে। ব্যাটারি চার্জ হয়ে গেলে তখন তেলের লাইন আপনা-আপনিই বন্ধ হয়ে যায়। তখন গাড়ি চলতে থাকে ব্যাটারির সাহায্যে। এর ফলে জ্বালানি তেল সাশ্রয় হয়। সাধারণ একটি গাড়ি প্রতি লিটারে যেখানে সাত থেকে আট কিলোমিটার চলে, সেখানে হাইব্রিড গাড়ি যায় ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার। হাইব্রিড গাড়িগুলো ১৫০০ সিসির ইঞ্জিন ক্ষমতার হলেও তা ১৮০০ সিসির সুবিধা দেয়। এছাড়াও আমাদের দেশে এসব গাড়ি ব্যবহারে ৬০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও সাড়ে চার শতাংশ গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব। যা পরবর্তীতে অন্য শিল্পে ব্যবহার করে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

hy-3

হাইব্রিড গাড়ির অসুবিধাঃ

ইঞ্জিন কনস্ট্রাকশন এর কারণে হাইব্রিড গাড়িকে এখনো বিলাসবহুল গাড়ি হিসেবে গণ্য করা হয়।এই কারণে দামও একটু বেশী।

বাংলাদেশে হাইব্রিড গাড়িঃ

বাংলাদেশেও এখন এসে গেছে পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ি। হোন্ডা কোম্পানির তৈরি করা এই হাইব্রিড গাড়ির বাংলাদেশে পরিবেশক ডিএইচএস মোটরস৷ তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশে আমদানি করা হোন্ডা সিভিক হাইব্রিড গাড়িতে রয়েছে ১.৩ লিটারের ৩ স্তরের আই-ভিটিইসি ইঞ্জিন৷ ইঞ্জিনটি ইন্টিগ্রেটেড মোটর অ্যাসিস্ট (আইএমএ) সিস্টেমের সমন্বয়ে তৈরি বলে চালু হবার সময় এটি পেট্রোল ইঞ্জিনেই চলবে। গাড়ি থামালে বা ব্রেক কষলে পেট্রোল ইঞ্জিন বন্ধ হবে৷ ফলে তেল খরচ কমবে। প্রতি একশ’ কিলোমিটারে খরচ হবে মাত্র ৪.৬ লিটার তেল৷ হন্ডা সিভিকের হাইব্রিডে রয়েছে একটি ডুয়াল স্ক্রল হাইব্রিড এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম, যা শক্তি সরবরাহের পাশাপাশি দু’টি এয়ার কন্ডিশনিং কমপ্রেসারও পরিচালনা করে। এর ফলে পেট্রোল ইঞ্জিনের ওপর চাপ কম পড়ে। স্বাভাবিক আবহাওয়ায় ইঞ্জিনচালিত কমপ্রেসারটি শীততাপ নিয়ন্ত্রকের কাজ করে৷ হোন্ডা সিভিকের এই হাইব্রিড গাড়ি এক লিটার জ্বালানিতে ২১.৭৪ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে। সারা বিশ্বে হন্ডা সিভিক হাইব্রিড গাড়িই সবচেয়ে কম গ্যাস নিঃসরণ করে। আমাদের ঢাকা শহরের পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ গাড়ির কালো ধোঁয়া। যানবাহনের এই কালো ধোঁয়া থেকে ঢাকাকে মুক্ত করতে সবার আগে দরকার এই পরিবেশবান্ধব গাড়ি।

তবে দামের কারণে পরিবেশবান্ধব এ ধরনের গাড়ির বিক্রি আশানুরূপ বাড়ছে না বলে জানান বিক্রেতারা। তাঁরা জানান, বাংলাদেশে যখন প্রথম হাইব্রিড গাড়ি আমদানি করা শুরু হয়, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বেশ সহযোগিতা করা হয়েছিল। সে সময় এ ধরনের গাড়ির ১৫০০ থেকে ২৫০০ সিসির ক্ষেত্রে শুল্ক হার ছিল ৬১ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তীতে সিসিভেদে তা বাড়িয়ে ১৫৫ শতাংশ পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে হাইব্রিড গাড়ি বিক্রি কমে যায়। তাই শুল্ক আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া দাবি তাঁদের। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডা ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনায় বিষয়টিকে জোর দিয়ে সরকারের রাজস্ব আয় ঠিক রেখে পরিবেশ বান্ধব এসব গাড়ি আমদানিসহায়ক কিছু প্রস্তাব তৈরি করে।এগুলো বাস্তবায়ন হলে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ডিজেল চালিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির পরিবর্তে শতভাগ হাইব্রিড গাড়ি আমদানি করা সম্ভব হবে। কারণ জাপানি এক হিসেব মতে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মোট ৫০ লাখ হাইব্রিড গাড়ি বাজারে ছেড়েছে দেশটি। ফলে পরিবহন থেকে ২৬ মিলিয়ন টন কার্বন গ্যাস কম ছড়িয়েছে পরিবেশে। ফলে ইতোমধ্যেই জাপানের গাড়ির বাজার দখল করেছে গাড়িটি। ২০১৪ সালে মধ্যেই জাপানি বাজারে মোট গাড়ির ৩৭ শতাংশ হাইব্রিড ছিল। যা সেদেশের ওই সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ শতাংশ বেশি। দেশেটি আগামী ২০২০ সালের মধ্যে জাপানি বাজারের ৭০ শতাংশ গাড়ি হাইব্রিড করার লক্ষ্য রয়েছে।তাই ওই সময়ের পর সাধারণ রিকন্ডিশন্ড গাড়ি খুব একটা পাওয়া যাবে না। জাপান থেকে গাড়ি আমদানি করতে চাইলে এক সময় বাধ্যতামূলকভাবেই এগুলো আমদানি করতে হবে বাংলাদেশকে। তাই এখনই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলে তা আমদানিকারক ও ক্রেতা উভয়ের এর সুবিধা পাবে।

প্রতিবন্ধকতাঃ

হাইব্রিড গাড়ি আমদানিতে বেশ কয়েকটি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো গাড়িটির উচ্চ মূল্য। এজন্য আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশ এটি কিনতে পারবে না। জাপানে গাড়িটি ক্রয়ে ক্রেতাদের ইনসেনটিভ দেয়া হয়। এটি সম্ভব হয়েছে সরকারের ভর্তুকি সিদ্ধান্তের কারণে। পরিবেশ রক্ষায় জাপান সরকার এর জন্য একটি ভর্তুকি তহবিল করেছে। কিন্তু আমাদের দেশে তা সম্ভব নয়। তাই হাইব্রিড এসব গাড়ি আমদানিতে ইয়োলো বুকে (জাপানী মূল্য তালিকা) প্রদর্শিত মূল্য থেকে ২৫ শতাংশ কম মূল্যে, সাধারণ গাড়ির চেয়ে অবচয় হার বেশি ধরে শুল্কায়ন ও আলাদা এইচএস কোড বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে বারভিডা।এছাড়া অন্য প্রতিবন্ধকতাটি হলো কারিগরি সহায়তা। অর্থাৎ গাড়িটি নষ্ট হলে তা মেরামতের জন্য এদেশে লোক নেই। একই সঙ্গে ব্যাটারি নষ্ট হলে কিংবা বাতিল হলে তা আমাদের দেশীয় বাজারে পাওয়া যাবে না। তবে এটির সমাধানের পথও ব্যবসায়ীরা বের করেছেন। এক্ষেত্রে সরবরাহ কোম্পানির সঙ্গে একটি চুক্তি করা হবে। যাতে ক্রয়ের পরবর্তী ৫ বছর এসব সার্ভিস সংশ্লিষ্ট কোম্পানির দায়ীত্বে থাকবে।

 

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

7 + 1 =

sidebar ad space 1

ads1

sidebar ad space 2



আমাদের সাথে থাকুন



2 + 12 =  

sidebar ad space 3



  আমাদের অনুসরণ করুণ

যোগাযোগ করুণ

www.chakabd.com

email address:
info@chakabd.com
chakabd2015@gmail.com

67/D, Yakub South Center,Kalabagan, Dhaka-1205
Phone No. 01711281218

  টুইটার আপডেট

  ফেসবুক আপডেট