নতুন প্রকাশনা সমূহ:

অটোমোবাইল ল্যাআউট

০৩ নভে, ২০১৬ চাকা বিডি মন্তব্য নাই টিপস এন্ড ট্রিক্স, হোম

লিখেছেন মোরশেদুল আলম।

ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ বা ফোর হুইল ড্রাইভ- কোন ল্যাআউট আপনি পছন্দ করবেন?

নিজের গাড়ি কোন ধরনের ল্যাআউটয়ের হবে বা কোন ল্যাআউটয়ের অটোমোবাইল আপনি নিজের জন্য পছন্দ করবেন সেটা নির্বাচনে আপনাকে সব ধরনের ল্যাআউট সম্পর্কে জানতে হবে আগে। তারপরেই নিজের জরুরত আর সুবিধানুযায়ি প্রয়োজনীয়টি বেছে নেয়া যায়।

এখানে ‘ল্যাআউট’ বলতে গাড়ির এঞ্জিন এবং ট্রান্সমিশন ব্যবস্থাপনাকে বুঝাচ্ছে। অর্থ্যাৎ একটি মোটরগাড়ির এঞ্জিন কোন ব্যবস্থার ভিত্তিতে তার চাকা গুলোকে পরিচালিত করছে, সেটাই ঐ গাড়ির ল্যাআউট। ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ বা অল হুইল ড্রাইভ, ঠিক কোন ল্যাআউটটি আপনি পছন্দ করবেন সেটা নির্ভর করছে এই ধরনগুলোর ভাল-মন্দ সম্পর্কে আপনি কতটা-কী ওয়াকিবহাল তার উপর।

automobile-layout

সাধারনতঃ তিন ধরনের ল্যাআউটের গাড়ি হয়। এগুলো হচ্ছে-

FWD- Front Wheel Drive

AWD- All Wheel Drive

RWD- Rear Wheel Drive

এরমধ্যে RWD ল্যাআউটের গাড়ি বাংলাদেশে আসেনা বললেই চলে, বা বলা যায় এই ল্যাআউটের গাড়ি এখানে প্রচলিত হয়নি তেমন। এদেশে গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে FWD বা AWD এই দুই ধরনের ল্যাআউটই পাওয়া যায়। ফলে এই দুধরনের গাড়ির সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে ধারনা থাকলেই চলে। তবুও এখানে প্রতিটি ল্যাআউট নিয়েই সাধারন আলোচনা থাকছে।

  • ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ

FWD বা ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ গাড়িতে এঞ্জিন শুধুমাত্র সামনের চাকাগুলোকে পরিচালিত করে। কথাটা ‘ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ’ বলা থেকেই এটা বুঝা যায়। বর্তমানে এই ফরমেটের গাড়ি অনেক বেশি জনপ্রিয়। এধরনের গাড়িতে এঞ্জিন প্রায় ক্ষেত্রেই সামনে বসে। পেছনে বসানো সম্ভব হলেও FWD গাড়িতে পেছনে এঞ্জিন হয়ই না বলতে গেলে।

আমাদের বাংলাদেশে এটা খুব কমন পাওয়া যায়। এর কারন হচ্ছে ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ গাড়ি তৈরি সহজ ও সস্তা। আর এর রিপিয়ার খরচও কম। RWD’র মত এখানে কোন প্রপেলার সাফট বা এঞ্জিন থেকে চাকাকে ঘুরানোর জন্য আলাদা কোন সংযোগ দন্ড থাকেনা। ফলে ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ গাড়ি তুলনামুলক হালকা হয়। আর হালকা হওয়ার কারনে RWD’র তুলনায় এগাড়ির জালানির কার্যকারিতা থাকে বেশি। যাত্রী ও মালামাল বহনে গাড়িতে জায়গাও করা যায় বেশি। তাছাড়া বৃষ্টিতে এমন গাড়ি ড্রাইভিং নিরাপদ। কেননা গাড়ির এঞ্জিন ও ট্রান্সএক্সেল সামনের দিকে হওয়াতে গাড়ির পূর্ণভার সম্মুখের দিকে থাকে। ফলে গাড়ির ভার রাস্তাকে একরকম আঁকড়ে রাখে।

এঞ্জিন সামনের দিকে প্রতিস্থাপিত হওয়ায় FWD গাড়ির সামনের অংশ থাকে বড় বা লম্বা। বলা হয়ে থাকে এগুলো নাক লম্বা গাড়ি। ফলে ড্রাইভিং-এর ক্ষেত্রে এইরকম গাড়ি খানিকটা অসুবিধাজনক। ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ গাড়িতে এঞ্জিন ও সামনের চাকাই মূলতঃ পুরো গাড়িকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যায়। একই সাথে গাড়ির দিক ফেরানোর কাজও করে। এই ব্যবস্থা অতি গতির গাড়ির জন্য উপযুক্ত নয়। বিশেষতঃ হাই পারফরমেন্স বা স্পোর্টস কারের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মকও। পূর্ণগতি বা ফুল এক্সেলারেশনে এগুলোতে ডানে বা বাঁয়ে ঝোঁক দেখা যায়। এজন্য স্পোর্টস কারের ক্ষেত্রে FWD দেখা যায় না। এছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় ফ্রন্ট হুইল ড্রাইভ গাড়ির সিভি জয়েন্ট ও এক্সেল দ্রুত নষ্ট করে।

  • অল হুইল ড্রাইভ

AWD বা অল হুইল ড্রাইভ গাড়ি বা ল্যাআউট আমাদের দেশে 4WD বা Four Wheel Drive নামে বেশি পরিচিত। AWD-এ গাড়ি চার, ছয়, আট চাকা বিশিষ্ট হতে পারে। সাধারণতঃ ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি বা প্রাইভেট কার ও জীপ চার চাকার হয় বলে এই ল্যাআউটের গাড়ি এদেশে Four Wheel Drive নামে অধিক আলোচিত।

অল হুউল ড্রাইভ বা ফোর হুইল ড্রাইভে মূলতঃ এঞ্জিন থেকে প্রতিটা চাকায়, মানে চার চাকাতেই সমভাবে পাওয়ার সাপ্লাই হয়। অল হুইল ড্রাইভে FWD ও RWD’র সব সুবিধাই পাওয়া যায়। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে শুষ্ক-আর্দ্র যেকোন পরিস্থিতিতে এসব গাড়ির প্রতিটা টায়ারের সাথে রাস্তার সম্পর্ক থাকে নিবিড়। অর্থ্যাৎ রাস্তার সাথে একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ আকর্ষণ বজায় রেখে গাড়ি চালিয়ে নিতে এটা অতুলনীয়। খারাপ আবহাওয়াতে AWD’র ব্যালেন্স পারফরমেন্স গাড়ির যথাযত পরিচালনায় খুবই সহায়তা করে। শীত প্রধান দেশে বরফ ঢাকা রাস্তায় ফেঁসে যাওয়া থেকে রক্ষা করে এই গাড়ি। এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলে ড্রাইভিং এর ক্ষেত্রে এটি স্বাচ্ছন্দ্যের।

ফোর হুইল ড্রাইভ সম্পর্কে যদি নেতিবাচক কিছু বলতে হয় তাইলে প্রথমেই আসে এর দামের কথা। তুলনামূলক ভাবে এধরনের গাড়ি বেশ এক্সপেন্সিভ হয়। ওজনে ভারি হওয়ার কারনে এর ফুয়েল কনসামশান বেশি। তাছাড়া সার্ভিসিং ও মেটেইনেন্স খরচও হয় বেশি। এই ল্যাআউটের গাড়িতে নানান উপাদান ও যন্ত্রাংশের প্রয়োজন পড়ে, যার ফলে সার্ভিসিং-এ অধিক খরচ গুনতে হয়।

  • রেয়ার হুইল ড্রাইভ

RWD বা রেয়ার হুইল ড্রাইভে এঞ্জিন পেছনের চাকাকে পাওয়ারড বা পরিচালিত করে, এটা নিশ্চয় এখন সহজে অনুমান করা যাচ্ছে। তবে এখানেও এঞ্জিনের অবস্থান কিন্তু বেশিভাগ সময়েই থাকছে সামনে। যদিও সামনে মাঝে, পেছনে মাঝে ও পাছনেও এঞ্জিনের অবস্থান হতে পারে অনেক ক্ষেত্রে। প্রায় সব ধরনের মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল RWD বা রেয়ার হুইল ড্রাইভে তৈরি।

RWD-এ দুইটি মৌলিক সুবিধা পাওয়া যায়। প্রথমতঃ এটি গাড়িতে ভাল ব্যালেন্স উপহার দেয়। এই ল্যাআউটে এক্সেল পেছনে অবস্থান করার কারনে এটি এঞ্জিনের ওজনের সাথে সঠিক ব্যালেন্স রক্ষা করতে পারে। ফলে পুরো গাড়ির ওজনেও একটা সামঞ্জস্যতা আসে, স্পোর্টস কারের জন্য যেটা খুব জরুরী। দ্বিতীয়তঃ এ ধরনের গাড়ি বেশ টেকসই হয়। এবং রিপিয়ারিং করা লাগে কম। খানা- খন্দক বা ভাঙ্গা রাস্তায় গাড়ি চালালেও সহজে কোন যন্ত্রাংশের পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়েনা। যেখানে এসব ক্ষেত্রে FWD-এ এক্সেল ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বেশি।

রেয়ার হুইল ড্রাইভে যদি কখনো ড্রাইভিং শফট বা প্রপেলার শফট নষ্ট হয় বা পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে, সেক্ষেত্রে খরচ গুনতে হয় বেশি। RWD ফরমেটের গাড়ি অপ্রচলিত হওয়ার কারনে এসব গাড়ির পার্টস আমাদের দেশে সহজলভ্য নয়। ফলে দামও পড়ে বেশি। এছাড়া RWD বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ট্রাকশন হ্রাস করে। এবং এই ব্যবস্থায় গাড়ি চলে মূলতঃ পেছন থেকে ধাক্কার মাধ্যমে। ফলে বৃষ্টি বা বরফ রাস্তায় বা খাড়া রাস্তায় রেয়ার হুইল ড্রাইভ পিছলে যাবার সম্ভাবনা থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

− 1 = 6

sidebar ad space 1

ads1

sidebar ad space 2



আমাদের সাথে থাকুন



7 - 15 =  

sidebar ad space 3



  আমাদের অনুসরণ করুণ

যোগাযোগ করুণ

www.chakabd.com

email address:
info@chakabd.com
chakabd2015@gmail.com

67/D, Yakub South Center,Kalabagan, Dhaka-1205
Phone No. 01711281218

  টুইটার আপডেট

  ফেসবুক আপডেট