নতুন প্রকাশনা সমূহ:

আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যালের শুরু যেভাবে

৩১ অক্টো, ২০১৬ চাকা বিডি মন্তব্য নাই হোম

মাহমুদ।

বিংশ শতাব্দীতে যান্ত্রিক যানবাহনের ক্ষেত্রে বিশ্বজুরে যুগান্তকারি পরিবর্তন ঘটে। রাস্তায় যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বেড়ে যাওয়ায় দেখা দেয় নানা বিপত্তি। স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজন হয় একটি নিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যবস্থার। এর প্রেক্ষিতেই শুরু হয় লাল,সবুজ এবং হলুদ বাতির ব্যবহার।

lead_large

ছবিঃ বিশ্বের প্রথম ইলেক্ট্রিক ট্রাফিক লাইটের ছবি(১৯১৪)।

১৯৩০ সালের দিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ট্রেন চলাচলের জন্য বিভিন্ন দেশের রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রংয়ের ব্যবহার শুরু করেছিল। ট্রেন চালকের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে তারা এর ব্যবহার করত। বিপদের রং হিসেবে লাল রং ব্যবহারের প্রচলন ছিল তখন। তাই ট্রেন থামানোর নির্দেশ হিসেবে লাল, সামনে চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ হিসেবে সাদা এবং অপেক্ষা করা কিংবা সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সুবজ রং ব্যবহার হত। কিন্তু সাদা রংয়ের ব্যবহার নিয়ে সমস্যায় পড়তে হল অনেক।

১৯১৪ সালে একটি ট্রেনকে থামার নির্দেশনা দিয়ে কর্তৃপক্ষ লাল রংয়ের বাতি প্রজ্জ্বলন করে। কিন্তু দুর্ঘটনাবশতঃ বাতিটি তার ধারক স্ট্যান্ড থেকে আলগা হয়ে নিচে পড়ে গিয়েছিল। এ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ বা অন্য কেউ অবগত ছিলেন না। বাতিটি আলগা হয়ে যাওয়ায় এর পেছনে থাকা সাদা রং বের হয়ে আসে। ফলশ্রুতিতে ট্রেনটির সামনে থাকা একটি ট্রেনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এই দুর্ঘটনার ফলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সাদা রং বাদ দিয়ে অন্য রং বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সবুজ রং এবং অপেক্ষারত থাকার জন্য হলুদ রংয়ের ব্যবহার শুরু হয়। লাল এবং সবুজ থেকে হলুদ রং সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়ায় তারা হলুদকে বেছে নিয়েছিল।

লাল, সবুজ আর হলুদ রং যেভাবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে লাগল:
১৮৬৫ সাল। ইংল্যান্ডের লন্ডন শহরে সে সময় প্রচলন ছিল ঘোড়া টানা গাড়ির। দিন দিন এর সংখ্যা বাড়ছিল। ফলে রাস্তা পারাপারে পথচারীরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। এ সমস্যার সমাধান দিলেন জন পিক নাইট। তিনি ছিলেন একজন রেলওয়ে ম্যানেজার এবং সে সঙ্গে একজন প্রকৌশলীও। যিনি সেই সময় ব্রিটিশ রেলওয়ে এর সংকেত ব্যবস্থা (সিগন্যালিং সিস্টেম) দেখাশুনা করতেন। তিনি মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে ট্রফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য এই আলোক ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবে রাজি হয়ে ১৮৬৮ সালের ১০ ডিসেম্বর লন্ডন শহরের গ্রেট জর্জ জংশন ও ব্রিজ স্ট্রিটে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়।

প্রথম দিকে দিনের বেলা ট্রাফিক পুলিশ হাতের সাহায্যে ট্রফিক নিয়ন্ত্রণ করত। আর রাতের বেলা লাল ও সবুজ বাতির সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা হত। এটিই ছিল রাস্তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন রংয়ের বাতির প্রথম ব্যবহার। এই ব্যবস্থা গ্রহণের এক মাস পর্যন্ত ভালোভাবেই সব চলছিল। বাতিতে আলো জ্বলার জন্য জ্বালানি হিসেবে তারা গ্যাস ব্যবহার করত। একদিন গ্যাস সরবরাহ করার লাইনে ছিদ্র হয়ে গ্যাস বের হতে থাকে। এ ব্যাপারটি কেউই লক্ষ্য করেনি। হঠাৎ বিস্ফোরনে আগুণে দগ্ধ হন স্ট্যান্ডের নিচে দাঁড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজে ব্যস্ত থাকা এক পুলিশ সদস্য। এই দুর্ঘটনার কারণে ব্যবস্থাটি চালু হওয়ার একমাস পরেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে সেই সময় হাত নাড়িয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল। ১৯১০ ও ১৯২০ এর দশকে ট্রাফিক পুলিশরা চাইলে হাত নাড়িয়ে অথবা আলো ব্যবহার করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। ১৯২০ সালে মিশিগানের ডেট্রয়েটে উইলিয়াম এল পটস নামের এক পুলিশ চার রাস্তার মোড়ে আলোক বাতির সাহায্যে ট্রফিক নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন। এই সময়ে তিনি লাল, সবুজ ও হলুদ এই তিনটি রংয়ের বাতি ব্যবহার করেন।

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে তিনিই সর্বপ্রথম এই তিনটি রং একত্রে ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু কাউকে না কাউকে বাতির রং পরিবর্তনে নিয়োজিত থাকতে হত। এভাবে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়। ১৯২০ এর দশকে অনেকেই স্বয়ংক্রীয়ভাবে রং পরিবর্তন করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেন। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ির হর্নের শব্দ চিহ্নিত করে ধাতু সনাক্তকরণের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময় পর পর স্বয়ংক্রীয়ভাবে রং পরিবর্তন করা।

আমাদের দেশে পঞ্চাশের দশকে পুরাতন ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের কাছে প্রথম ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

8 + 1 =

sidebar ad space 1

ads1

sidebar ad space 2



আমাদের সাথে থাকুন



14 - 7 =  

sidebar ad space 3



  আমাদের অনুসরণ করুণ

যোগাযোগ করুণ

www.chakabd.com

email address:
info@chakabd.com
chakabd2015@gmail.com

67/D, Yakub South Center,Kalabagan, Dhaka-1205
Phone No. 01711281218

  টুইটার আপডেট

  ফেসবুক আপডেট